একটি ‘লিখা’ ও কিছু ‘অতীত’...
শফিকুুল ইসলাম : নবান্নের পিঠা হয়তো আজ অতীত। কখন নবান্ন আসে-যায় এখন আর খুঁজ রাখেনা খোকা। ব্যস্ত শহরের কোলাহল আজ কেড়ে নিয়েছে খোকার ঐতিহ্য।
অনেকটা পথ পেড়িয়ে ক্লান্ত পথিকের মতো খোকা ফিরে দেখে গ্রাম, গ্রামের সেই ঐতিহ্য আর কিছু প্রিয় মানুষের মুখ। কিন্তু এ তো মাত্র কল্পনা।
কোন এক কাক ডাকা ভোরে শীতের শিশিরকণাগুলো জমজম টিনের চালে আওয়াজ তুলছে। ফজরের নামাজ শেষে গৃহকর্ত্রী লেগে যায় চাউল কুটার কাজে। ঢেকির শব্দে লেপ-কাথা মোড়ানো ছোট্ট খোকার ঘুম প্রায় পালিয়েছে। কানের কাছে আস্তে মা বলে, “তাড়াতাড়ি উঠ খোকা, পিঠা খেতে হবে তো; শীতের পিঠা।”
দুধ-চিতয় খোকার বেশি পছন্দের। পুলি পিঠা, বাপা পিঠা আর নারিকেলের নাড়ু সবই তৈরি করে অপেক্ষমাণ মা খুকার জন্য বসে আছে।
কিন্তু বাদশাহী খোকা অলসতা নিয়ে শুয়েই আছে। তারপর সূর্যিমামা জেগে উঠে। পাখির কলরব স্পষ্ট হয়ে উঠে। চারপাশে শুরু হয় আনাগোনা। পৃথিবী ততক্ষণে সচল হয়ে উঠেছে।
বাবা গোয়ালঘর থেকে বালতি ভরে দুধ নিয়ে এসে ধমকের সুরে বলে, “খোকা তুই এখনো উঠিস নি! সেই কবে নামাজে যাওয়ার সময় থেকে তোকে ডাকছি।”
এবার খোকা লাফ দিয়ে উঠে ক্ষণিকের মধ্যে পিঠা খেতে তৈরি হয়ে যায়। খোকা পিঠা খায় বাবার সাথে বসে; বারান্দায় শীতলপাটির উপর।
কিন্তু, আজ খোকা যে হারিয়েছে সব!
পিঠা, শীতলপাটি, বারান্দা এসব শুধুই অতীত। অতীত হয়ে গেছে আরো অনেক কিছুই। তাই নবান্ন আজ খোকার জীবনে নিছক কল্পনা মাত্র।
“খোকা... খোকা, উঠ”, শব্দটা ঘুমের ঘুরে বেজে উঠে...



No comments