কলঙ্কিত বাংগালপাড়ার ২২তম বাকসু কমিটি
মিসবাহ অনিক: বাংগালপাড়া ইউনিয়নের সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠন, “বাংগালপাড়া বিশ্ববিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদ” যাকে সংক্ষেপে বলা হয় ‘বাকসু’। বাকসু'র সবচেয়ে বড় কার্যক্রম হল, বার্ষিক সম্মেলন। প্রতি বছর এই সংগঠনটির সম্মেলন হয় খুবই জমজমাটভাবে। কিন্তু ২০২০-২১ কমিটির মতো এত বাজে ও নিকৃষ্টভাবে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়নি। এই সম্মেলনে কমিটি ঘোষণা করা হয় নতুন করে, কিন্তু ২০২০-২১ এর জন্য যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল তার সবটাই ছিল পরিকল্পিত। সবারই জানার কথা, কোনো সংগঠন বা ক্লাবের সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করতে চাইলে অবশ্যই তার পাবলিসিটি করতে হয়। নইলে পাস করা তো দূরের কথা, ভোট পাবেন কিনা সন্দেহ। তবে ২০২০-২১ কমিটিতে একজন সভাপতি প্রার্থী করেছিলেন ঠিক এমন কাজই। আশ্চর্যজনকভাবে তিনি নির্বাচিতও হয়ে গেলেন। কিভাবে হলেন নির্বাচিত? বলছি। বাকসু'র সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক হতে চাইলে বাকসু'র সম্মানিত সদস্যদের ও রানিং কমিটির সদস্যদের জানাতে হয়। পরে বিবেচনায় আসে বাকিদের কথা। কিন্তু ২০২০-২১ কমিটির সভাপতি প্রার্থী কাউকে কিছু না জানিয়ে কমিটি গঠনের চলতি অবস্থায় নিজেকে প্রার্থী দাবী করে এবং কার্যকরী উপদেষ্টারা তার দাবী গ্রহণ করে। বলে রাখা ভালো, কর্যকরি উপদেষ্টা হিসেবে থাকে ৫ জন আর আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকেন নতুন কমিটি বানানোর দায়িত্বে। যিনি হঠাৎ নিজেকে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে দাবী করেন তিনি ছিলেন ২০১৯-২০ কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন ঐ ৫ জন কার্যকরী উপদেষ্টার সাথে। আরেকটা কথা বলে রাখি, ২০২০-২১ কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী ছিল ২ জন। কোনো কারনে একজন প্রার্থী সম্মেলনের দিন উপস্থিত হতে পারেনি, সেই হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার বিরোধী প্রার্থী সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হবার কথা। কিন্তু এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মূহুর্তের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্যে উপস্থিত একজনকে প্রার্থী বানিয়ে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বাকসু'র সংবিধান অনুযায়ী এমন কোনো নীতি নেয়। অথচ সংবিধানকে গুরুত্ব না দিয়ে এই দুই নাম্বারি করে নির্বাচন করা কমিটিকেই বলবত করা হয়।
কিভাবে নির্বাচিত হয়েছে ২০২০-২১ এর সভাপতি সেটা বলি- ৫ জন কার্যকরী উপদেষ্টার সাথে আগের কমিটির (২০১৯-২০) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থেকে নতুন কমিটি গঠন করবে। এই ৭ জনের মতামত নিয়ে সভাপতি প্রার্থী যাকে উপযোগী মনে করবে তাকেই সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করবে। চাইলে এই ৭ জন ভোটাভুটির মাধ্যমেও সভাপতি বাচাই করতে পারে। ২০২০-২১ কমিটিটি ছিল পরিকল্পিত যা আগেই প্লানিং করা ছিল। সম্মানিত সদস্যদের মধ্যে একজনের সহযোগিতায় এবং ৫ জন কার্যকরী উপদেষ্টার মধ্যে ২ জন নিজের লোক রাখা হয়। সভাপতি নির্বাচনের সময় তাদের ২ জন নিজের লোক, আগের কমিটির (২০১৯-২০) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তৎক্ষনাৎ প্রার্থী হওয়া সভাপতিকে ভোট দেয়। এখানে, ২০১৯-২০ এর সাধারণ সম্পাদকই ২০২০-২১ এর তৎক্ষনাৎ হওয়া সভাপতি প্রার্থী। তারমানে সে নিজেকে নিজে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি ভোট দিবে দূরের কথা কিছু জানতেই পারেনি। এখানে উপস্থিত ৫ জনের ২ জন ও ২০১৯-২০ এর সভাপতি ছিল তৎক্ষনাৎ প্রার্থী হওয়া সভাপতির বন্ধু। অতএব, ২ জন উপদেষ্টা+আগের সভাপতি বন্ধু+নিজের ভোট = ৪ ভোট।৭ ভোটের মধ্যে নিজের ভোটসহ ৪-৩ ভোট পায় তৎক্ষনাৎ সভাপতি। অবশেষে সভাপতির নাম ঘোষণা করা হলে সবাই অবাক হয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন। কেউ কেউ আবার ভালোবেসে সাধুবাদও জানিয়েছে হাসি মুখে।
ঠিক ওই দিনই বিকেলে কয়েকজনের সিদ্ধান্তে এই কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থাপত্র দিয়ে কমিটি বাতিল করার। আলোচনা হয়। ঠিক ওই দিনই রাত ৮ টার দিকে কমিটির বিরুদ্ধে যারা তাদের সাক্ষর নেওয়া হয়, এবং তা সম্মানিত সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়। সম্মানিত সদস্যরা ৫ দিন সময় চেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধান্ত দিবে বলে জানায়।
বাকসু'র গঠনতন্ত্র ও সংবিধানে বলা আছে নতুন কমিটির অধিকাংশ ভোট (৫০%+) যদি নব-নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা পোষণ করে তাহলে কমিটি বাতিল হয়ে যাবে। এই কমিটির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে ২৯ সদস্যের মধ্যে ১৮ সদস্য, যা ৫০ শতাংশের বেশি। অথচ ১৮ সদস্যের দেওয়া অনাস্থাপত্রকে পাত্তা না দিয়ে সম্মানিত সদস্যরা সংগঠনটিকে টিকিয়ে রাখার চিন্তা করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই কমিটিকেই কার্যকর করেন।
এই সিদ্ধান্ত অধিকাংশ লোকেরই ইচ্ছাশক্তি নষ্ট করে দেয়, যার জন্য অনেকেই এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। আমিও ২০২০-২১ কমিটি থেকে পদত্যাগ করি।
উল্লেখ্য, আমি ২০২০-২১ কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলাম।
এই লেখাটি প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হলো লাল কালিতে মার্ক করে রাখার জন্য।


No comments